পর্নোগ্রাফিঃ ঠিক কতটুকু ক্ষতিকর?

সোহানুর রহমান জীবন

সোহানুর রহমান জীবন

শিক্ষার্থী,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

একটা সময় পর্নোগ্রাফি বলতে যেটা বুঝানো হতো, দিনকে দিন তার মাত্রা ছাড়িয়ে ভয়ংকর রুপ নিয়েছে। একটা গতবাধা জিনিস খুব বেশীদিন মানুষকে সন্তষ্ট করতে পারেনা। আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে, আমাদের মস্তিষ্ক অসীমের দিকে আকৃষ্ট। তাই যৌনাচারে ধীরে ধীরে যুক্ত হয় নতুন নতুন টার্ম। বেড়েছে ভায়োলেন্স। যুক্ত হয়েছে নতুন সব বিকৃত যৌনাচার। এসেছে গ্যাংব্যাং, ফোর্সড ইন্টারকোর্স, ডিজাইয়ার রেপ, গ্যাংরেপ, সাব্জুগেশন,হিউমিলিয়েশন,বিডিএসেম এর মতো বিকৃত সেক্স লাইফ।।

ফলস্বরূপ দেখা যায়,ইদানীং আমাদের সমাজে বেড়েছে সেক্স ভায়োলেশনের খবর। ধর্ষিতা হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধা, বেড়েছে সমকামীতা।আর এই সবকিছুর জন্যই কেবল মাত্র দায়ী পর্নোগ্রাফী।।

চলুন দেখি পর্নোগ্রাফি আপনার জীবনে কী ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসে।

-পর্নোগ্রাফী দেখার ফলে আপনার মাঝে যৌনতা সম্পর্কে অবাস্তব কল্পনা বা প্রত্যাশা জাগ্রত হয়। আপনার স্বামী বা স্ত্রী ও সেই কল্পনার অংশ হয়।বাস্তব অভিজ্ঞতা যখন সেই কল্পনার সংগে মিলাতে পারেন নাহ তখনই আপনার মাঝে তা এক ধরনের হতাশা তৈরী করে।আপনার পার্টনারকে তখন আর আকর্ষনীয় মনে হয় না।। জন্ম নেয় পরকীয়ার মতো পাপের।। ফলস্বরূপ ভেঙ্গে যায় একটি পরিবার।।

-আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে পর্ন আসক্ত থাকেন তাহলে আপনার মাঝে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেবে। শরীরে টেস্টোস্টোরোনের (Testosterone) পরিমাণ কমে যায়, এর ফলে ক্লান্তি ভাব, বিষন্নতা, দুর্বল স্মৃতিশক্তি, মেরুদন্ডে ব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া, চুলপড়া, চর্বি জমা, হাড় ক্ষয়, স্বাভাবিক যৌনক্রিয়াতে অনীহা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, কম শারীরিক সক্ষমতা, পুরুষালি আচরণ কমে যাওয়া প্রভৃতি দেখা দেয়।

-এটি এমন একটি আসক্তি যা লুকানো সহজ নয়। কারো না কারো সামনে চলে আসে ফলে আসক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব হ্রাস পায়।
দীর্ঘদিনের পর্ন আসক্তি মানুষকে মস্তিষ্কের সাধারণ চিন্তা করার ক্ষমতাকে বাধা দেয়।

একটা সহজ সত্য হচ্ছে মুসলিম নামেই এব্যাপারে অবগত আছেন যে, পর্নোগ্রাফি হারাম এবং ক্ষতিকর।
প্রশ্ন হচ্ছে তবুও কেন আমরা ঝুকে যাই এই মারাত্মক নেশায়??

বৈজ্ঞানিক ব্যাখা হলো, আপনি যখন পর্ন দেখেন তখন শরীর থেকে ডোপামিন নামক এক ধরণের হরমোন নিঃসৃত হয়। ডোপামিনের মূল কাজ কম কষ্টদায়ক কাজের মাধ্যমে মস্তিষ্কের আরাম খোঁজা। যেহেতু পর্ণ দেখার সময় ডোপামিন নিঃসৃত হয় ও মস্তিষ্ক তৃপ্তি অনুভব করে তাই বলা যায় পর্ণ আসক্তির অন্যতম কারণ হলো ডোপামিন।

পর্ণ আসক্তির আরও একটি অন্যতম প্রধান কারণ ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা। আপনার হাতেই যখন এই কুৎসিত পাপ করার মাধ্যম রয়েছে তখন তোহ শয়তানের পক্ষে আপনাকে ধোকা দেয়া অতি সহজ হয়ে যায়।। দিনশেষে পর্নোগ্রাফি আপনাকে জেনার দারপ্রান্তে নিয়ে যায়।

ইসলাম যেখানে যিনার কাছে যেতেও নিষেধ করে-

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন,

وَ لَا تَقْرَبُوا الزِّنٰۤی اِنَّهٗ كَانَ فَاحِشَةً ؕ وَ سَآءَ سَبِیْلًا.

তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় তা অশ্লীলতা ও বিপথগামিতা। (সূরা বনী ইসরাইল ১৭)

যিনা কত নিকৃষ্ট তা বোঝার জন্য এই একটি আয়াতই যথেষ্ট। এখানে ‘যিনা করো না’ এ কথা বলা হয়নি; বরং এর কাছে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে। এ থেকে অনুমান করা যায়, এটা কত জঘন্য অপরাধ।

ইসলামে শুধু অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের চূড়ান্ত রূপটাই যিনা নয়। বরং যেসব কাজ যিনার প্ররোচনা দেয় সেগুলোও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং তাও যিনা বলে গণ্য।

এক হাদীসে আছে-

الْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ.

চোখের ব্যভিচার হল দেখা। কানের ব্যভিচার শোনা। জিহ্বার ব্যভিচার বলা। হাতের ব্যভিচার ধরা। পায়ের ব্যভিচার হাঁটা। মন কামনা করে আর লজ্জাস্থান তা সত্য বা মিথ্যায় পরিণত করে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৫৭)

অর্থাৎ চোখ-কান-হাত-পা-জিহ্বা সবই যিনা করে- যিনার প্ররোচনা দেয়, যা পূর্ণতা পায় লজ্জাস্থানের মাধ্যমে।

দ্বিতীয় পার্ট পড়ুন  হস্তমৈথুন: আড়ালে থাকা হাজার কোটি টাকার ব্যবসা