হস্তমৈথুন: আড়ালে থাকা হাজার কোটি টাকার ব্যবসা

সোহানুর রহমান জীবন
সোহানুর রহমান জীবন

শিক্ষার্থী,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

হস্তমৈথুন হালাল নাকি হারাম? মুসলিম মাত্রেই জানেন এটি হারাম।তবে কিছু মহল হস্তমৈথুনকে হালাল করার চেষ্টায় আছেন বহুদিন যাবত।যার পেছনে আছে বিরাট এক ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে। শুধু হস্তমৈথুন নয়,এর পাশাপাশি সমকামীতা,Animale Sex,Child Sex সহ অন্যন্য বিকৃত যৌনাচার গুলো বেশ পরিচিতি পাচ্ছে দিনকে দিন ।। পশ্চিমা সোসাইটি এখন এগুলো আর অবৈধ মনে করে নাহ।এমনকী আমাদের দেশেও এগুলোর বৈধতা নিয়ে বার বার দাবী ওঠে কিছু মহল থেকে। কিন্তু গত শতকের সত্তর দশকের পূর্বে কিন্তু চিত্রটা এমন ছিলোনা। তখন ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে হস্তমৈথুন সহ অন্যন্য বিকৃত যৌনাচারকে খারাপ চোখে দেখতো।
কিন্তু হঠাত করে কি এমন হলো যার কারনে চিকিৎসক ,গবেষক,বিজ্ঞানীসহ সকলেই একযোগে হস্তমৈথুনকে হালালাইজ করতে আদা জল খেয়ে লেগে পড়লেন??

চর্যাপদের আজকের আলোচ্য বিষয় সেটিই।

হস্তমৈথুন ও সমকামিতা নিয়ে সর্বপ্রথম থিওরী দিয়ে গেছেন সিগমন্ড ফ্রয়েড। তবে এর বিস্তারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন আলফ্রেড চার্লস কিনসে। ১৯৪৮ সালে এই বিজ্ঞানী বের করেন তার প্রথম বই ‘Sexual Behavior in the Human Male’। ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় তার আরেকটি বই ‘Sexual Behavior in the Human female’। এই দুইটা বই পাশ্চাত্যে প্রবল ঝড় তোলে, যৌনতা সম্পর্কে পাশ্চাত্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে আমূল পরিবর্তন এনে দেয়। পাশ্চাত্যের সামাজিক ইতিহাসকে এই বই দুইটার মতো হুট করেই আর কোন কিছু বদলে দিতে পারে নি। আজকের পাশ্চাত্য সমাজে প্রচলিত সেক্স এডুকেশান কিনসের কুখ্যাত এই দুইটা বইয়ের ওপরই নির্ভর করে আজও পরিচালিত হচ্ছে। যৌনতা সম্পর্কে আধুনিক পশ্চিমা সমাজের ধ্যানধারণা একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে আলফ্রেড কিনসের এই দুইটা বইয়ের উপর ভিত্তি করে। এই দুই বইতে কিনসে এমন কিছু কথা এবং তত্ত্ব দাবী করেছেন যা এই পৃথিবীতে মানুষ আগে কখনই জানতোই না বা চিন্তাও করে নি।

কিনসে দাবী করে, প্রতিটি শিশুই নাকি যৌনতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এমনকি ৭ মাস বয়সী শিশুরা নাকি হস্তমৈথুনে আগ্রহী এবং পিতামাতার উচিত ৬-৭ বছর বয়স থেকে শুরু করে শিশুদের মাস্টারবেট করতে শিখানো এবং মিলেমিশে একসঙ্গেই মাস্টারবেট করা
কিনসে দাবী করেন, মানব যৌনতার ওপর কারও কোন কর্তৃত্ব ফলানো চলবে না। যার যা মন চাইবে, সে তাই করতে পারবে, এটাই স্বাভাবিকতা।
আর এই স্বাভাবিকতা প্রমানের এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য অনেক সময় সাবজেক্টের চালিয়েছে চরম যৌন নির্যাতন, রেহায় দেওয়া হয়নি ছোট্ট ছোট্ট শিশুদেরকেও। কিনসে সব ধরণের বিকৃত যৌনাচারগুলিকে স্বাভাবিক করার যে জোর দাবী উঠেছিল তা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে বেশ কিছু গোষ্ঠি এবং কর্পোরেশন নিজেদের স্বার্থ বাস্তবায়নের জন্য। এরাই বছরের পর বছর ধরে বস্তায় বস্তায় ডলার ঢেলে কিনসের ভুয়া দাবীগুলো বিজ্ঞানের সহী শুদ্ধ পোশাক পরিয়ে উপস্থাপন করেছে পুরো বিশ্বের সাধারণ মানুষদের কাছে। ক্রমাগত গুনগান গাওয়া হয়েছে সমকামিতার, শিশুকামের। সেক্স এডুকেশানের নামে বাচ্চাদেরকে ছোট্টবেলা থেকেই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে সমকামিতা, মাস্টারবেশন, এনাল সেক্সের মতো জঘন্য বিষয়গুলো। ঠান্ডা মাথায় পশুকাম, শিশুকামকে স্বাভাবিক বলে ঘোষনা করার আপ্রাণ চেস্টা করা হয়েছে। এইসব কাজে যথেচ্ছা ব্যবহার করা হয়েছে প্রচলিত সবধরনের মিডিয়াকে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কিনসের এই গোজামিলে ভরা বিকৃত যৌনাচার এর থিওরীগুলো সবাই মিলে এভাবে প্রমোট করলো কেন???

এখানেই উঠে আসে বিশাল বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের এক ইন্ডাস্ট্রির নাম।

পর্ন ইন্ডাস্ট্রি।

১৯৬৮ সালে এমেরিকান সাইকিয়াট্রিস্ট এসোসিয়েশনমানসিক রোগ থেকে হস্তমৈথুন কে বাদ দিয়ে দেয় আল্ফ্রেড কিন্সের গবেষনার ওপর ভিত্তি করে। এবং এর পর পরই ১৯৬৯ সালে এমেরিকান থিয়েটারগুলিতে প্রকাশ্যে মুক্তি পেল প্রথম ব্লুফিল্ম।এবং আস্তে আস্তে সেখানে দেখানো হতে লাগলো কিনসের উপস্থাপিত যাবতীয় বিকৃত যৌনাচার এর রকমফের। ব্লু ফিল্ম এর ব্যবসা বাড়তে লাগলো হুহু করে। যার থেকে প্রতি বছর পশ্চিমা বিশ্ব আয় করতে থাকে দশ হাজার কোটি ডলার। বছরে শতকরা ৮ % হারে বাড়তে থাকে ব্যবসার মুনাফা।
আর এই দশ হাজার কোটি ডলার বা ১০০ বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে হস্তমৈথুনের ওপর।
জেনে অবাক হবেন, প্রথম সারির পাচটা পর্ন সাইটের প্রতিদিনের ভিজিটর সংখ্যা ২০ কোটি।। একবার কল্পনা করুন কত ভয়াবহ চিত্র।অনলাইন কনটেন্ট এর অন্তত ৬০-৭০ ভাগ পর্ন অথবা সফট পর্ন যা আপনাকে হস্তমৈথুনে আকৃষ্ট করে। রিসার্চ বলছে ১৩-২৪ বছর বয়সী প্রত্যেকে হস্তমৈথুনের প্রয়োজনে সপ্তাহে একবার পর্ন দেখে।
ধীরে ধীরে পুরো বিশ্ব আজ এই ইন্ডাস্ট্রির আওতায়। আপনাকে আমাকে বিকৃত যৌনাচারে আকৃষ্ট করে তারা প্রতি বছর কামিয়ে নিচ্ছে শতশত কোটি ডলার। আর বিনিময়ে আমাদের থেকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নৈতিকতা আর ছড়িয়ে পড়ছে নানান রোগ বালাই। আবার শরনাপন্ন হচ্ছি তাদের এসাইনকৃত বিভিন্ন যৌন চিকিৎসকের কাছে আর আবার খোয়াচ্ছি লাখ লাখ টাকা।
এভাবেই আমার আপনার রক্ত চুষে বেড়ে উঠছে এক নীল ইন্ডাস্ট্রি আর আমরা তাতে সায় দিয়ে চলেছি দিনের পর দিন।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest

অন্যন্য লেখাসমূহ​