হলোকাস্টঃএকজন হিটলার ও ৬০ লাখ ইহুদি নিধন

হলোকাস্ট

ছোটবেলায় হিটলার নাকি ছবি আঁকতে ভিষন পছন্দ করতেন । তাই আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন তিনি । কিন্তু বিধি বাম, ইহুদী আধিক‌্যের কারনে তিনি আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে পারেননি । বলা হয়ে থাকে এর পর থেকেই হিটলারের মনে ইহুদীদের প্রতি ঘৃনা জন্মাতে শুরু করে । তবে এটা কতটুকু সত‌্য তা জানা যায়নি । কারন তার নিজের লেখা বইতে তিনি এইরকম কিছুই উল্লেখ করেননি ।

আবার কেউ কেউ ধারনা করে থাকেন হিটলারের মায়ের মৃত‌্যুও হয়েছিলো একজন ইহুদী চিকিৎসকের হাতে। এখান থেকেও হিটলারের মনে ইহুদী বিদ্বেষ জন্মাতে পারে । যাইহোক, যেভাইবেই হোক, হিটলারের মনে ব্যপক ইহুদি বিদ্বেষ এর জন্ম নেয়। এই ইহুদি বিদ্বেষই হলোকাস্ট বা ইহুদি নিধনের মূল কারন ছিলো। আবার অনেকেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের পরাজয়কেও হলোকাস্টের কারন হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন।

আজ পর্যন্ত মানব জাতীর ইতিহাসে যতোগুলো গনহত‌্যা হয়েছে , তার মধ‌্যে “হলোকাস্ট” হচ্ছে সবচেয়ে নৃসংশতম । শুধু পুড়িয়েই নয় , আরো অভিনব সব নৃশংস কায়দায় প্রায় ৬ মিলিয়ন ইহুদী কে হত‌্যা করেছিলো হিটলারের নাৎসি বাহিনী ।
সেসময় ইউরোপে প্রায় ১ কৌটি ১০ লাখ ইহুদীর বসবাস ছিলো । এবং হলোকাস্টের শেষ পর্যায়ে এসে প্রায় ৬০ লাখ ইহুদী প্রান হারায় ন‌্যাটসি বাহিনীর হাতে । ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়।

‘হলোকাস্ট (holocaust) শব্দটি প্রাচীন গ্রীক থেকে এসেছে যার অর্থ হল ‘পোড়ানোর মাধ্যমে বলিদান’। ইহুদিরা এটিকে ‘শোহ Shoah’ শব্দ দিয়েও উল্লেখ করে, হিব্রু ভাষায় যার অর্থ ‘বিপর্যয়’। জার্মানরা এটিকে “ইহুদি প্রশ্নের চূড়ান্ত সমাধান” বলে অভিহিত করেছিল।

হলোকাস্ট যুগের সূচনা হয় ১৯৩৩ সালের জানুয়ারিতে যখন অ্যাডলফ হিটলার এবং নাৎসি পার্টি জার্মানিতে ক্ষমতায় আসে। নাৎসি পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জার্মান সমাজ থেকে ইহুদিদের টার্গেট এবং বিতাড়িত করতে বিভিন্ন আইন পাস করতে শুরু করে।

ইহুদি বিরোধী নানাবিধ পদক্ষেপের মধ্যে, নাৎসি শাসকরা বিভিন্ন বৈষম্যমূলক আইন প্রণয়ন করে এবং জার্মানির ইহুদিদের লক্ষ্য করে সহিংস কর্মকান্ড সংগঠিত করে। ১৯৩৩ এবং ১৯৪৫ সালের মধ্যে ইহুদিদের উপর নাৎসি নিপীড়ন ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে ওঠে যেটিকে নাৎসি নেতারা “ইহুদি প্রশ্নের চূড়ান্ত সমাধান” হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন। “চূড়ান্ত সমাধান” হিসেবে ইউরোপীয় ইহুদিদেরকে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়।
হলোকাস্টের অংশ হিসেবে ১৯৩৫ সালে জার্মান নাগরিকত্ব আইন পাস হয় যেখানে জার্মান ইহুদিদের জন্য বৈষম্যমূলক আইন প্রণয়ন করে। নতুন নাগরিকত্ব আইনে বলা আছে,
-শুধুমাত্র জার্মান বা সংশ্লিষ্ট রক্তের ব্যক্তিরাই জার্মান সাম্রাজ্যের সুরক্ষা পাবেন।
-ইহুদি এবং জার্মানদের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ।
-ইহুদি এবং জার্মানদের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক একটি অপরাধ।
-ইহুদিদের জাতীয় পতাকা ওড়ানো নিষিদ্ধ।

এভাবে নানান আইন করে হলোকাস্ট এর পথ সুগম করা হয়।এবং এক বিশালসংখ্যক ইহুদি নিধন সম্পন্য হয়।যার ফলশ্রুতিতেই ইহুদিরা ইউরোপ ছেড়ে আশেপাশে নানান যায়গায় ছড়িয়ে পরে। পরবর্তীতে আমেরিকার সরাসরি তত্বাবধানে ইহুদিরা বিশ্বের বিভিন্ন যায়গায় আবাসন গড়ার চেষ্টা করে। ইহুদিদের এ নির্বাসন এর ফলেই আজকের ইজরাইল রাষ্ট্রের জন্ম ও ফিলিস্তিন ইজরাইল সংকটের আবির্ভাব।