বাংলায় ‘ই’ এবং ‘য়’-এর পার্থক্য কী?

“ই” এবং “য়” দ্বন্দ্বের সমাধান:

ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াগুলিতে জ্ঞানীগুণী(!) লেখকসংখ্যা বেড়েছে, তারই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিকৃত বাংলার ব্যবহার। কিছু সাধারণ ভুল প্রয়োগ যা শ্রুতিমাধুর্যতা কমিয়ে দেয়। মেজাজের ভারসম্যহীনতা তৈরী করে যেকোনো লেখা পড়তে গিয়ে।
তেমনি একটি ভুল হলো বাংলা লেখায় ‘ই” এবং “য়” এর ব্যবহার। ইদানীং “ই” এবং “য়” এর ভুল ব্যবহার যেন অতি স্বাভাবিক ব্যপার হয়ে গেছে। আবার এই ব্যাপারে যদি কাউকে ভুল ধরিয়ে দেন তবে মুখের ওপর বলে দেবে ” আরেহ ভাই ওই একই আরকী😃

কিন্তু বিষয়টা যে একই নয় সেটি একটি উদাহরণ থেকেই আমরা পরিষ্কার হতে পারবো।
অনেকেই ফেসবুকে লিখেন – হায়! বন্ধুরা কেমন আছো?
অথচ বাংলা ভাষায় হায়! বলতে প্রলাপ বা হা-হুতাশ করাকে বোঝায়। হায়= Alas!
আবার অনেকে বলে থাকেন, হাই, হাই, আমার নানা মারা গেছে।
এখানে হাই বলতে কাউকে সম্বোধন করা বোঝায়।
হাই = Hi বোঝানো হয়।
শুধুমাত্র “ই” এবং “য়” এর ব্যবহার এর কারনে পুরো বাক্যের অর্থ ও ভাবগাম্ভীর্যের কী পরিবর্তন হলো তা ওপরের উদাহরণেই পরিষ্কার। 

এখনো কি আপনাদের মনে হয় “হাই” এবং “হায়” এক?

উত্তর হলো কখনোই এক নয়। বরং “ই” এবং “য়” এর ব্যবহারে বাংলা ব্যাকরণে বেশকিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। চলুন সেগুলো দেখে নেই।

“ই” এবং “য়” এর ব্যবহার শিখতে হলে আমাদেরকে পুরুষ এর প্রকারভেদ ও ক্রিয়াপদের ব্যবহার জানতে হবে।
আমরা জানি, বাক্যের যে পদ দ্বারা কোন কাজ করা বোঝায় তাদেরকে ক্রিয়া বলা হয়। যেমনঃ খাই, যাই, নাও ইত্যাদি।

এখন চলুন পুরুষ এর প্রকারভেদ দেখে নেয়া যাক।
বাংলা ব্যাকরণে পুরুষ প্রধানত ৩ প্রকার। এগুলো হলো –
প্রথম / উত্তম পুরুষ (আমি, আমরা)
দ্বিতীয় / মধ্যম পুরুষ ( তুমি, তোমরা)
তৃতীয় / নাম পুরুষ (সে, তারা, তাসনীম)

উত্তম পুরুষ(First Person) এর ক্ষেত্রে “আমি/আমরা”-এর পরে ক্রিয়ার সঙ্গে ‘ই’ যুক্ত হবে।

উদাহরণ: আমি চাই, আমরা যাই, আমি খাই। আমরা ভালো নেই।

মধ্যম পুরুষ (2nd Person) এর ক্ষেত্রে “তুমি, তোমরা” এদের ক্রিয়ামূলের শেষে “ও” হয়।

উদাহরণ: তুমি খাও, তোমরা যাও।

নাম পুরুষ (3rd Person) এর ক্ষেত্রে “সে, এটা, তারা, নোমান” এদের ক্রিয়ামূলের শেষে “য়” হয়।

উদাহরণ: সে চায়, তারা খায়, করিম যায়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সম্মানার্থে নাম পুরুষ (যেমন: তিনি, তাঁরা) এবং মধ্যম পুরুষ (যেমন: আপনি, আপনারা) এদের ক্রিয়ামূলের শেষে “ন” হয়।

উদাহরণ: আপনারা যান, তিনি চান।

তাহলে আমরা শিখলাম,
-“আমরা সবায় নৌকাই ভোট চায়” এভাবে না লিখে বরং লিখবো
-” আমরা সবাই নৌকায় ভোট চাই”

আতাকামা মরুভূমি
আন্তর্জাতিক
admin

আতাকামা মরুভূমি: যেখানে কখনও বৃষ্টি হয় না

আতাকামা মরুভূমি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত একটি অনন্য এবং আকর্ষণীয় স্থান। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক স্থানগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী খরা পরিস্থিতি এবং বৃষ্টিপাতের অভাবের জন্য বেশ পরিচিত।

আরও পড়ুন »
হলোকাস্ট
ইতিহাস
admin

হলোকাস্টঃএকজন হিটলার ও ৬০ লাখ ইহুদি নিধন

ছোটবেলায় হিটলার নাকি ছবি আঁকতে ভিষন পছন্দ করতেন । তাই আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন তিনি । কিন্তু বিধি বাম, ইহুদী আধিক‌্যের কারনে তিনি আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে পারেননি ।

আরও পড়ুন »
ইতিহাস
admin

১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস নাকি অন্যকিছু?(ভ্যালেন্টাইন্স ডের ইতিহাস)

১৪ ফেব্রুয়ারী। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এদিনটি সারা বিশ্বে বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশে খুবই জাঁকজমকভাবে পালন করা হয়। বিষয়টি এখন এমন হয়েছে যে, ভ্যালেনটাইন্স ডে যেন আমাদের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আরও পড়ুন »
ইতিহাস
admin

বাংলা প্রবাদ ও এর পেছনের গল্প

আমরা প্রায়শই বিভিন্ন বাংলা প্রবাদ ব্যবহার করি। কিন্তু অনেকেই হয়তো এসকল শব্দ বা প্রবাদ প্রবচনের উৎপত্তির পেছনের গল্পটা জানিনা। আজকে আপনাদের সাথে নিয়ে এরকম কিছু বহুল ব্যবহৃত প্রবাদের পেছনের গল্প

আরও পড়ুন »
viking
ইতিহাস
admin

ভাইকিং কারা? ইতিহাসে তাদের অবদান কতোটুকু?

ভাইকিং নামটির সঙ্গে আমরা অনেকই পরিচিত। কিন্তু আমরা কি জানি ভাইকিং কারা? তাদের কাজ কি ছিল? আমেরিকার ইতিহাসে তাদের অবদান কতোটুকু? ৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১১শতক পর্যন্ত ভাইকিংদের আধিপত্য ছিল। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান

আরও পড়ুন »
ইশারাত মঞ্জিলঃ মধুর ক্যান্টিনের ইতিহাসের পুনর্পাঠ
ইতিহাস
admin

ইশারাত মঞ্জিলঃ মধুর ক্যান্টিনের ইতিহাসের পুনর্পাঠ

মধুর ক্যান্টিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক এক স্মৃতির ফলক । মধুর ক্যান্টিনকে অনেকেই ছাত্ররাজনীতির আতুরনিবাস বলে থাকেন। মধুর ক্যান্টিনের ইতিহাস ঘাটতে গেলে আপাতদৃষ্টিতে আমাদের চোখে পরে মধুসূদন ও তার পরিবারের

আরও পড়ুন »