
এইচএসসি লেভেলে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি
কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াটা সকল এইচএসসি পড়ুয়াদের লালিত স্বপ্ন। কিন্তু
শিক্ষার্থী,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আতাকামা মরুভূমি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত একটি অনন্য এবং আকর্ষণীয় স্থান। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক স্থানগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী খরা পরিস্থিতি এবং বৃষ্টিপাতের অভাবের জন্য বেশ পরিচিত। কথিত আছে যে,আতাকামার কিছু কিছু অঞ্চলে দীর্ঘ ২০ কোটি বছর কোন বৃষ্টি হয়নি।
দক্ষিণ আমেরিকার চিলি এবং পেরুতে অবস্থিত এই মরুভূমি, যা প্রায় 40,000 বর্গ মাইল জুড়ে বিস্তৃত।
আতাকামা মুলত তার অবিশ্বাস্য ল্যান্ডস্কেপের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত, যার মধ্যে রয়েছে বিশাল বালির টিলা, লবণের আস্তর এবং অকল্পনীয় শুষ্কভূমি।
-সাহারা মরুভুমি থেকেও নিদেনপক্ষে একশগুন বেশী শুষ্ক।
অনেকেই তাই আতাকামাকে পৃথিবীর বুকে একটুকরো মঙ্গল গ্রহ বলে আখ্যায়িত করে।
-এটি পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলস্থিত পর্বতমালা কর্দিলেরা দে লা কোস্তা এবং পূর্বে আন্দেস পর্বতমালা দ্বারা আবদ্ধ। উত্তরে মরুভূমিটি তারাপাকা অঞ্চল হয়ে পেরু সীমান্ত পর্যন্ত চলে গেছে। এখানে যায়গাভেদে একশ বছরে গড়ে তিন থেকে চার বার বৃষ্টিপাত হয়।
–
এর কঠোর অবস্থা সত্ত্বেও, আতাকামা মরুভূমি শুষ্ক জলবায়ুর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া বিভিন্ন অনন্য এবং শক্ত প্রজাতির উদ্ভিদ এবং প্রাণীর আবাসস্থল। কিছু প্রজাতি, যেমন আন্দিয়ান ফ্ল্যামিঙ্গো এবং কুলপিও ফক্স, শুধুমাত্র এই মরুভূমিতেই পাওয়া যায়। মরুভূমিতে আতাকামেনোস সহ বেশ কয়েকটি প্রাচীন সংস্কৃতির বাসস্থানও রয়েছে, যারা হাজার হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলে বাস করে এবং শুষ্ক অবস্থায় জল সংগ্রহ এবং ফসল ফলানোর জন্য অত্যাধুনিক পদ্ধতি তৈরি করেছে।
মরুভূমিতে স্থানে স্থানে হাজার খানেক লোক কৃষিকাজে নিয়োজিত। পিকাতে লেবুর চাষ হয়। সান পেদ্রো দে আতাকামার লবণাক্ত জলাভূমিগুলিতেও চাষাবাদ হয়। চুকিকামাতার কাছে কালামাতে লোয়া নদীর পানি সেচ করে আলু ও আলফালফা চাষ করা হয়।
তাপীয় বিপরীতায়নের (thermal inversion) কারণেই আতাকামাতে বৃষ্টিপাত কম হয়। অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল থেকে হামবোল্ট সমুদ্রস্রোত যে শীতল পানি বয়ে নিয়ে আসে, তা সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরিভাগের বায়ুকে শীতল করে, এবং গরম বায়ু উপরে উঠে যায়। এই উষ্ণ বায়ু আতাকামা মরুভূমিতে কুয়াশার ও স্ট্র্যাটাস মেঘের সৃষ্টি করে, কিন্তু বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। ফলে কতিপয় সেচকৃত মরূদ্যান ছাড়া আতাকামা মরুভূমিতে উদ্ভিজ্জ্জ্জ অত্যন্ত দোষ্প্রাপ্য। বিপরীতায়নের ফলে বিষুবরেখার কাছে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও আতাকামা মরুভূমির তাপমাত্রা কম। উদাহরণস্বরূপ, আতাকামা মরুভূমিতে অবস্থিত চিলির আন্তোফাগাস্তা শহরের তাপমাত্রা এবং ১৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত চিলির সান্তিয়াগো শহরের তাপমাত্রা মোটামুটি একই। গ্রীষ্মে এখানকার গড় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মরুভূমিটি ১৯শ শতকের শেষ দিকে এসে বলিভিয়া, পেরু ও চিলির বিবাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনটি দেশই এ অঞ্চলের মূল্যবান নাইট্রেট ও তামার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। আন্তোফাগাস্তার উত্তর-পূর্বে এবং ইকিক থেকে দেশের অভ্যন্তরভাগে সোডিয়াম নাইট্রেটের ভাণ্ডার ছিল। এই এলাকাগুলির অধিকাংশই প্রথমে বলিভিয়া ও পেরুর অধীনে ছিল, কিন্তু খনন শিল্পগুলিতে চিলির ব্যবসায়ীরা অনেক বিনিয়োগ করেছিলেন এবং তারা চিলির সরকারের সমর্থন পেতেন। প্রশান্ত মহাসাগরের যুদ্ধ (১৮৭৯-১৮৮৩) শেষে চিলি বিজয়ী হয়। আনকনের চুক্তির ফলে চিলি অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নেয়; বলিভিয়া তার সমগ্র পশ্চিম সমুদ্র উপকূল হারায়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত চিলি এখান থেকে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করে এবং চিলির সম্পদের এক বিরাট অংশের যোগান দেয় এই মরভূমি। এসময় বিশ্বের নাইট্রেট ব্যবসায় চিলির ছিল একক আধিপত্য। নাইট্রেট শিল্পের বিকাশের সুবিধার্থে ইকিক, কালদেরা, আন্তোফাগাস্তা, তালতাল, মেহিয়োনেস, এবং উত্তরে পিসাগুয়াতে সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হয়, এবং সেগুলি থেকে উপকূলীয় পর্বতমালার মধ্যে দিয়ে অভ্যন্তরভাগে মরভূমি পর্যন্ত রেলপথ তৈরি করা হয়। কোন কোন বছরে ৩০ লক্ষ টন নাইট্রেট নিষ্কাশন করা হত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর কৃত্রিম নাইট্রেটের উদ্ভাবন শুরু হতে আতাকামা থেকে নাইট্রেট নিষ্কাশনে ভাটার সৃষ্টি করে এবং চিলি নাইট্রেটের একটি আঞ্চলিক বাজারে পরিণত হয়। ফলে চিলি সরকার তামার খনিশিল্পে মনোযোগ দেন। বর্তমানে এই তামার খনিগুলিই অঞ্চলটির মূল আয়ের উৎস।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, আতাকামা মরুভূমি পর্যটক এবং অ্যাডভেঞ্চার সন্ধানকারীদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। আকর্ষণীয় ল্যান্ডস্কেপ এবং অনন্য বন্যপ্রাণী বিশ্বজুড়ে দর্শকদের আকর্ষণ করে, যারা এই ধরনের পরিবেশের বৈচিত্র্যময় এবং রুক্ষ ভূখণ্ড ঘুরে দেখতে আসে।
উপরন্তু, পরিষ্কার আকাশ এবং নিম্ন স্তরের আলোক দূষণ আতাকামা মরুভূমিকে তারকা দর্শন এবং জ্যোতির্বিদ্যা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি আদর্শ অবস্থানে পরিণত করেছে।
উপসংহারে, আতাকামা মরুভূমি সত্যিই একটি অনন্য এবং আকর্ষণীয় স্থান, যেটা আল্লাহতায়ালার এক অনন্য নিদর্শন। আপনি একজন বিজ্ঞানী, একজন অভিযাত্রী বা শুধু একজন কৌতূহলী ভ্রমণকারী, তারপরেও আতাকামা মরুভূমি এমন একটি জায়গা যা দেখা থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখা উচিত নয়।
শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারনে একদিনে…
মধুর ক্যান্টিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক…
ছোটবেলায় হিটলার নাকি ছবি আঁকতে ভিষন…

কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াটা সকল এইচএসসি পড়ুয়াদের লালিত স্বপ্ন। কিন্তু

১৪ ফেব্রুয়ারী। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এদিনটি সারা বিশ্বে বিশেষ করে

পুঁজিবাদী অর্থনীতি ব্যবস্থা।।শুনতে বেশ সাদাসিদে আর অধিক উৎপাদনের অর্থনীতি ব্যবস্থা
প্রতিটি বাঙালির জন্যই দেশকে ,ভাষাকে জানা আবশ্যকীয়। এরই সাথে সাথে সমসাময়িক বিশ্ব সম্পর্কেও চাই সম্যক জ্ঞান। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক খুঁটিনাটি আলোচনা জানতে পড়ুন চর্যাপদ ।
আমাদের গবেষনাধর্মী লেখাগুলি পড়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন