কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াটা সকল এইচএসসি পড়ুয়াদের লালিত স্বপ্ন। কিন্তু সঠিক প্রস্তুতির অভাবে অনেকেই তার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে পারেনা। আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে ভর্তিযুদ্ধ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়াটা মোটেও সহজ নয়। এজন্য এই অগ্নি পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করার জন্য দরকার এইচএসসি লেভেল থেকেই গোছানো প্রস্তুতি। কি পড়তে হবে, কতটুকু পড়তে হবে, এসব নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া নেই। আবার এইচএসসি লেভেলে আদৌ ভর্তি পরীক্ষার পড়া উচিত কিনা সেটা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ। তোমাদের এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আমার আজকের লেখা। ২০১১ সালে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে তোমাদের জন্য আজকের লেখাটি সাজিয়েছি।
অনেক শিক্ষার্থীই মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পড়া এইচএসসি প্রস্তুতির সাথে সাংঘর্ষিক। আবার অনেকে ভাবে কোনটার প্রতি বেশি জোর দিবে? এইচএসসি নাকি এ্যাডমিশনের পড়া? যেহেতু ভর্তি পরীক্ষায় এইচএসসি রেজাল্টের গুরুত্ব অনেক। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার ফর্ম তুলতে একটি নির্দিষ্ট জিপিএ লাগে, আবার ভর্তি পরীক্ষায় এই জিপিএর উপর থাকে একটা নির্দিষ্ট নম্বর। সুতরাং এইচএসসির প্রস্তুতি কোনভাবেই গ্যাপ করা যাবেনা। এই পরিস্থিতির সহজ সমাধান হলো এইচএসসির সাথে এ্যাডমিশনের পড়া মোটেও সাংঘর্ষিক নয়। ভর্তি পরীক্ষার প্রায় ৮০% প্রশ্ন এইচএসসির বই থেকে করা হয়। সুতরাং, এইচএসসির বই ভালোভাবে রপ্ত থাকলে এ্যাডমিশনের প্রস্তুতি অটোম্যাটিক হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে এইচএসসির বই পড়লে এ্যাডমিশনের প্রস্তুতিও হয়ে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত দশ বারো বছরের প্রশ্ন সমাধান করতে হবে। তাহলে এ্যাডমিশনের প্রশ্নের ধরণ সম্পর্কে নির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে এবং সঠিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যাবে। শুধু প্রশ্নের ধরণ নয়, ভর্তি পরীক্ষার প্রায় ৪০ থেকে ৫০% প্রশ্ন বিগত বছরের প্রশ্ন থেকে হুবহু বা একটু ঘুরিয়ে করা হয়, যা চান্স পাওয়ার জন্য যথেষ্ট। এজন্য এইচএসসি পড়া অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নব্যাংক ব্যাখ্যাসহ সমাধান করা ফরজ। শুধু এই কাজটুকু এইচএসসি লেভেলে ভালোমতো করে রাখলেই যথেষ্ট বলে আমি মনে করি। তারপরও এক্সট্রা প্রস্তুতির কোন শেষ নেই।
আগেই বলেছি শুধু প্রশ্নব্যাংকে ব্যাখ্যাসহ রপ্ত করলেই এইচএসসি লেভেলে যথেষ্ট। তারপরও যারা নিজেদের আরো বেশি এগিয়ে রাখতে চাই, তাদের জন্য কিছু অতিরিক্ত পরামর্শ। বাংলায় নিজেদের এগিয়ে রাখার জন্য এইচএসসি মূল বইয়ের পাশাপাশি নবম দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বইটা বেশ কয়েকবার রিডিং পড়ে মোটামুটি আয়ত্ত করে রাখতে পারলে ভালো। এছাড়া যেকোনো বই থেকে (যেমন বাংলা) মুখস্থ বিষয়গুলো (এক কথায় প্রকাশ, বাগধারা, সমার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ, পারিভাষিক শব্দ, অনুবাদ) ঠোটস্থ করে রাখতে হবে।
ইংরেজির জন্য ইংরেজি মূল বই ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে। সহায়ক বই পড়া যেতে পারে। ইংরেজি মূল বইয়ের পাশাপাশি এইচএসসির সিলেবাসভূক্ত গ্রামারের টপিকস গুলোর কনসেপ্ট ভালোমতো ক্লিয়ার করার চেষ্টা করতে হবে। আর পারলে যেকোনো একটা বই থেকে যতবেশি পারা যায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাকুরীর পরীক্ষায় আসা vocabulary, prepositions, Idioms, group verbs, Translation পড়ার চেষ্টা করতে হবে।
সাধারণ জ্ঞানের জন্য প্রতি মাসের কারেন্ট এ্যাফেয়ার্সে চোখ বুলালে চলমান বিশ্ব সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকবে। এর বাইরে কিছু পড়ার দরকার এইচএসসি লেভেলে আছে বলে মনে করিনা। তবে কেউ চাইলে যেকোনো বই থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকুরীর পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন যতবেশি সম্ভব সমাধান করে রাখতে পারে।
আর বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই কাজ। এইচএসসির মূল বইয়ের পাশাপাশি যেকোনো ভর্তি পরীক্ষার বই থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকুরীর পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো যতবেশি পারা যায় সমাধান করতে হবে।
প্রস্তুতির কোন শেষ নেই। তবে ভুল প্রস্তুতি ভুল পথে নিয়ে যায়। আবার বলছি এইচএসসি লেভেলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নব্যাংক সমাধান করে রাখলেই যথেষ্ট। তারপরও নিজেকে আরো এগিয়ে রাখতে চাইলে আমার উপরের পরামর্শ অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব পড়ে রাখতে পারো। আর তুমি কতটুকু পড়তে পারবে সেটা নির্ভর করে তোমার শারীরিক সুস্থতার উপর। আমি মনে করে শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখার প্রস্তুতিই একজন শিক্ষার্থীর সবথেকে বড় প্রস্তুতি। ইনশাআল্লাহ তোমরা সুস্থ থেকে সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় তোমাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করবে।
প্রতিটি বাঙালির জন্যই দেশকে ,ভাষাকে জানা আবশ্যকীয়। এরই সাথে সাথে সমসাময়িক বিশ্ব সম্পর্কেও চাই সম্যক জ্ঞান। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক খুঁটিনাটি আলোচনা জানতে পড়ুন চর্যাপদ ।
আমাদের গবেষনাধর্মী লেখাগুলি পড়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন