ইতিহাস পাঠের ক্ষেত্রে প্রাগৈতিহাসিক যুগ বা প্রাক- ইতিহাস যুগ সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের লেখার মাধ্যমে আমরা জানবো প্রাগৈতিহাসিক যুগ কাকে বলে?প্রাক ইতিহাস যুগ কী? পৃথিবীর বয়স কত? আদিম মানুষের সৃষ্টিসহ নানাবিধ ব্যাপারে।
প্রাগৈতিহাসিক যুগ ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। ইতিহাস হলো অতীত যুগ ও সভ্যতার সাথে মানুষের সম্পর্ক ও কার্যাবলীর পাঠ। মূলত লিখিত ইতিহাসকেই ইতিহাস নামে অভিহিত করা হয়।কিন্তু লিখিত ইতিহাস এর অনেক আগেই পৃথিবীর সৃষ্টি যা আমাদের অগোচরেই রয়ে গেছে। লিখন পদ্ধতি আবিষ্কারের আগের সময়কালকেই মূলত প্রাগৈতিহাসিক বা প্রাক-ইতিহাস যুগ বলা হয়ে থাকে। মানব ইতিহাসে যেটুকু অংশের কোনো লিখিত বিবরণী পাওয়া যায় না সেই সময়কালকে প্রাক-ইতিহাস বা প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলা হয়। প্রাগৈতিহাসিক যুগকে তিনভাগে ভাগ করা হয় ক) প্রাচীন প্রস্তর যুগ। খ)মধ্য প্রস্তর যুগ গ) নব্য প্রস্তর যুগ
ইতিহাসের সূচনা হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দ এর আগ পর্যন্ত।প্রত্নতাত্ত্বিকগন প্রাচীন মিশর থেকে কিছু লিখিত দলিল আবিষ্কার করেছেন যার সময়কাল ছিলো খ্রীস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দ।এর পূর্বের কোন তথ্যই আর পাওয়া যায়না।তাই বলা যায় পৃথিবীপৃষ্ঠে মানুষের আগমন থেকে শুরু করে খ্রীস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দ পর্যন্ত প্রাগৈতিহাসিক যুগ। অর্থাৎ মানব ইতিহাসের বয়স পৃথিবীর তুলনায় অতি সামান্য। সংখ্যায় প্রকাশ করলে দাঁড়ায় পৃথিবীর ৪১ ভাগের ৪০ ভাগ সময়ই প্রাগৈতিহাসিক যুগ আর বাকী একভাগ এর লিখিত ইতিহাস পাওয়া যায়। পৃথিবীর বয়স নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই।অনেকেই বলে থাকেন পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর।(যদিও সবটুকুই অনুমান নির্ভর।) তবে এ ব্যাপারে কোরআন ও হাদীসে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন : “এবং আমি (আল্লাহ) তাদেরকে আসমান-যমিন ও তাদের নফসসমূহের সৃষ্টিপ্রক্রিয়ার প্রত্যক্ষদর্শী করিনি”। রাসুলুল্লাহ (সা) এর হাদিস “একটি কালো ষাঁড়ের দেহের সাদা চুল অথবা একটি সাদা ষাঁড়ের দেহের কালো চুল যেমন (সামান্য), তোমাদের পুর্বে গত হয়া উম্মতদের মাঝে (তুলনামুলকভাবে) তোমরা ঠিক তেমনই সামান্য।” অর্থাৎ রাসূল সাঃ এর আগমনকালের (১৪০০ বছর) আগেও পৃথিবীর এক বিরাট বয়সকাল রয়েছে যা আমাদের জ্ঞাত নয়।
সামান্য কদিন হলো মানুষ জানতে পেরেছে যে মহাবিশ্বের সূচনা এক মহাবিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে ঘটেছে। বেশ কিছু তত্ত্ব আর সমীকরণের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছে পৃথিবীর জন্ম এক মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, আইনস্টাইনের ক্ষেত্র সমীকরণ থেকে ফ্রিদমান সমীকরণ। তার পর বিশ্বতত্ত্ব নীতি এবং হোবল নীতি। অবশ্য আজ থেকে প্রায় এক হাজার ৫০০ বছর আগেই বিশ্বস্রষ্টা তাঁর মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে এ ব্যাপারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন।
‘অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে সপ্তাকাশ ও পৃথিবী পুঞ্জীভূত হয়ে ছিল। অতঃপর আমি উভয়টি এক মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে সূচনা করেছি।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৩০)
মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে পৃথিবী সৃষ্টির পর আল্লাহতায়ালা প্রথম মানব হিসেবে হযরত আদম আঃ ও মানবী হিসেবে হাওয়া আঃ পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রথম মানব মানবী তারাই।
প্রতিটি বাঙালির জন্যই দেশকে ,ভাষাকে জানা আবশ্যকীয়। এরই সাথে সাথে সমসাময়িক বিশ্ব সম্পর্কেও চাই সম্যক জ্ঞান। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক খুঁটিনাটি আলোচনা জানতে পড়ুন চর্যাপদ ।
আমাদের গবেষনাধর্মী লেখাগুলি পড়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন