এই বাংলার জনপদে নানান সময় ইসলামপন্থীরা নানাবিধ উপায়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তীতুমীরের বাঁশেরকেল্লা থেকে শুরু করে শাপলার জনজোয়ার। তাতে অবশ্য এই জনপদের মুসলমানদের ভাগ্যের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। এই যে আমাদের দূর্দশা এর জন্য অনেক কারনই সামনে আনা যেতে পারে তবে সবচেয়ে বড় সত্য হচ্ছে- সেরকম সুযোগ আসেনি আমাদের হাতে।
কিন্তু ৫ আগস্ট এর পর ইসলামপন্থীদের হাতে এক অপূর্ব সুযোগ এসেছে। এ সুযোগ প্রমান করে দিতে পারে মুসলিম অধ্যুষিত এ জনপদ আসলে এতদিন শুধুই শোষনের স্বীকার হয়েছে। এ সুযোগ দেখিয়ে দিতে পারে আগামীর দিন শুধুই সম্ভাবনার।
সেই সম্ভাবনাকে হৃদয়ে ধারন করে আমরা আজকের আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীকে কান্ডারী হিসেবে রেখে বয়ান আগাতে চাই।
হিসেব যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে বোঝা যায় ২৬ এর শুরুতেই নির্বাচন হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কীনা বা আদৌ হবে কীনা এসব আলাপ একপাশে রেখে আমরা দেখবো জামায়াতকে এই নির্বাচনে কেন জিতিয়ে আনা প্রয়োজন।
জামায়াতকে কেন জেতানো প্রয়োজন তার হাজারো যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করা যায়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো- বাংলাদেশের রাজনীতির যে পরিবর্তন আমরা চাই তা জামায়াত ছাড়া প্রচলিত অন্য কেউ সাধন করতে সক্ষম নয়।
একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন। আপনার আশেপাশে তাকান।
কী দেখতে পাচ্ছেন? চাঁদাবাজি! দলীয় কোন্দল! দখলদারিত্ব!
আরো হতাশার নানান দিক। এখন আরেকটু খেয়াল করুন
এই কাজগুলো কারা করছে? ০৫ ই আগস্টের আগে যারা করতো তাদের মতোই আরেকটা চক্র। চলুন আপনাদেরকে একটা ওয়েবসাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। এই লেখাটি প্রস্তত করার সময় পর্যন্ত একটা বিশেষ দল ২০০+ মানুষের রক্তে নিজেদের হাত রাঙিয়ে ফেলেছে। এটা শুধু ৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটনা। একবার চিন্তা করুন ক্ষমতার বলয়ের বাইরে থেকে যারা প্রতিদিন খুন, চাঁদাবাজি আর রক্তপিপাসায় নিজেদের মজিয়ে রাখে ক্ষমতার স্বাদ পেলে তাদের এ রক্তলিপ্সা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? গা শিউরে উঠছে না ভাবতেই?
এবার জামায়াতের দিকে তাকান। তারা কী করছে এ সময়ে এসে। উত্তরটা নিজেই খুঁজে পাবেন আপনি কেন জামায়াতকে ভোট দিবেন।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে জামায়াতই কেন?
– এর উত্তর খুব সহজ। এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে জামায়াতের বিকল্প নেই। জামায়াতকে আপনি গালি দিতে পারেন। বলতে পারেন হয়তো বুকফুলিয়ে নিজেকে জাহির করার মতো নেতা জামায়াতে নেই। তবে জামায়াতে যেটা আছে সেটা হলো জবাবদিহিতা।
আর জবাবদিহিতা কোন নেতাকেই দানবে পরিনত করতে পারেনা। সুতরাং জামায়াতই আমাদের ভরসার শেষ স্থল।
এবার আসি ইসলামপন্থীদের প্রশ্নে। বাংলার ইসলামপন্থীরা সবচেয়ে সংখ্যাগরিস্ট এবং সবচেয়ে লাঞ্চিত। শুরুতেই বলেছিলাম এই জনপদে বিভিন্ন সময় ইসলামপন্থীরা গর্জে উঠলেও দিনশেষে নিজেদের অবস্থান তারা জানান দিতে পারেনি। সবশেষ, হেফাজতে ইসলামের ওপর এক ভয়াবহ নারকীয় সহিংসতার মধ্যে দিয়ে ইসলামপন্থীদেরকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শুধুমাত্র জামায়াতই একমাত্র সংগবদ্ধ শক্তি যারা শাসকের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে দীর্ঘদিন যাবত। এই অগ্নিপরীক্ষায় তারা হারিয়েছে প্রায় সহস্রাধিক সঙ্গীকে। তবুও জামায়াত দমে যায়নি। একেরপর এক তৈরী করে চলেছে দক্ষ জনশক্তি, সৎ নেতৃত্ব, ছায়া সরকার, অর্থনৈতিক সক্ষমতা আর আল্লাহতায়ালার ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল যা জামায়াতকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হচ্ছে বাংলা অঞ্চলের সুন্দরবন। সুন্দরবন যেমন সমস্ত ঝড়ঝাপটা নিজের বুকে ধারন করে উপকূলকে রক্ষা করে চলেছে তেমনি জামায়াত যাবতীয় শত্রুর মুকাবিলা করে এ অঞ্চলে ইসলামপন্থী মানুষদেরকে বুকে আগলে রেখেছে। সুতরাং, জামায়াতকে ভরসা করা ব্যাতীত আমাদের এ অঞ্চলের নয়া প্রভাতের সূর্যদয় প্রায় অসম্ভব।
আর সে সুযোগ আমাদের এবারই হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এই সুযোগ হাতছাড়া করলে আবার ঠিক কবে এই বাংলার জনপদ মুক্তির দিশা পাবে তা অনিশ্চিত। তাই সিদ্ধান্ত নিন।
সুযোগ কাজে লাগান। বিবেককে প্রশ্ন করুন? আমার আপনার দেশ, সন্তান, সংসার আর এই মাতৃভূমি কাদের হাতে নিরাপদ??? প্রশ্ন রেখে গেলাম।।
প্রতিটি বাঙালির জন্যই দেশকে ,ভাষাকে জানা আবশ্যকীয়। এরই সাথে সাথে সমসাময়িক বিশ্ব সম্পর্কেও চাই সম্যক জ্ঞান। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক খুঁটিনাটি আলোচনা জানতে পড়ুন চর্যাপদ ।
আমাদের গবেষনাধর্মী লেখাগুলি পড়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন