জামায়াতে ইসলামীকে কেন ক্ষমতায় আনা দরকার?
এই বাংলার জনপদে নানান সময় ইসলামপন্থীরা নানাবিধ উপায়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তীতুমীরের বাঁশেরকেল্লা থেকে শুরু করে শাপলার জনজোয়ার। তাতে অবশ্য এই জনপদের
পুঁজিবাদী অর্থনীতি ব্যবস্থা।।শুনতে বেশ সাদাসিদে আর অধিক উৎপাদনের অর্থনীতি ব্যবস্থা মনে হয়।আসলেই তোহ এ ব্যবস্থা সাদাসিধে।কোম্পানিগুলোর মালিক উৎপাদন যন্ত্রের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেনীর সাহায্যে তৈরী করে অধিক পন্য,আর ছড়িয়ে দেয় দেশ বিদেশে। একটা খুবই নিষ্পাপ ব্যবস্যায়িক ব্যবস্থা।
কিন্তু পুজিবাদ কী এতোটাই নিষ্পাপ???জানতে হলে পৌঁছাতে হবে গভীর এক পুজিবাদী সিস্টেমের কেন্দ্রবিন্দুতে।
পুঁজিবাদের পরিচয়, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ :
পুঁজিবাদী অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হচ্ছে ব্যক্তিগত মালিকানার সীমাহীন অধিকার। এতে কেবল নিত্য নৈমিত্তিক প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি স্বীয় মালিকানায় রাখারই সুযোগ নয়, বরং সকল প্রকার উৎপাদন-উপায় এবং যন্ত্রপাতি ইচ্ছামত ব্যবহার ও প্রয়োগেরও পূর্ণ সুযোগ লাভ করা যায়। ব্যক্তি নিজ ইচ্ছামত অবলম্বিত যে কোন পন্থা ও উপায়ে অর্থোপার্জন করতে পারে এবং যে কোন পথে তা ব্যয় এবং ব্যবহারও করতে পারে; যেখানে ইচ্ছা সেখানে কারখানা স্থাপন করতে পারে এবং যতদূর ইচ্ছা মুনাফাও করতে পারে। মালিক চাইলে পন্য মজুদ রাখতে পারে এবং তৈরী করে পারে কৃত্তিম সংকট।ফলে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায় পন্যের দাম।
পুজিবাদী অর্থব্যবস্থায় শ্রমিকদেরকে যত কম বেতন দেয়া যায় মুনাফা তত অধিক হতে থাকে।যার কারনে পুজিবাদী শ্রেনী তৈরী করে কৃত্তিম চাকরির সংকট। বাড়িয়ে দেয় বেকারত্ব। ফলে চাকরির বাজারে এক ধরনের হাহাকার তৈরি হয় ও কম মূল্যে শ্রম দেবার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায় হাজার হাজার দক্ষ অদক্ষ শ্রমিক। এছাড়াও শ্রমের মূল্য কমাতে নারীদেরকে রাস্তায় নিয়ে আসে পুজিবাদী অর্থনীতি কারন,নারীদেরকে রাস্তায় আনতে পারলে শ্রমের দাম কমে একেবারে তলানীতে চলে আসবে।
এই ধরনের অর্থ ব্যবস্থা একদিকে সূদখোর, মহাজন, শোষক, কারখানা মালিক ও যালেম জমিদার-জায়গীরদারের আধিপত্য তৈরি করে। অপরদিকে মজুর-কৃষকদের এক সর্বহারা বুভূক্ষুদের দল তৈরী করে। এইরূপ অর্থ ব্যবস্থা যে সমাজে কার্যকরী হবে, সেখানে স্বভাবতই সহানুভূতি, সহৃদয়তা, মায়া-মমতা, পারস্পরিক সাহায্য প্রভৃতি মানবীয় ভাবধারা এক বিন্দুও পাওয়া যাবে না। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে থাকা সুদী প্রতিষ্ঠান গুলো এই পুজিবাদের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।ঋন শোধের তাড়না থেকে অধিক মুনাফা করতে চায় কোম্পানীগুলো ফলে বাজার হয়ে ওঠে অনিয়ন্ত্রিত ও পন্যের মূল্য বৃদ্ধি পায় অস্বাভাবিক হারে।
পুজিবাদের প্রধান টার্গেট আপনাকে ভোগে উদ্ধুদ্ধ করা।মিডিয়া,শিক্ষাব্যবস্থা, মার্কেটিং সবকিছুর দ্বারা আপনাকে তারা প্রচুর ভোগে আগ্রহী করে তুলবে। আর যেসব মাধ্যম আপনাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভোগের কথা বলে যেমন,পরিবার,ধর্ম, সমাজ এই ব্যবস্থাগুলো থেকে পুজিবাদ আপনাকে দূরে নিয়ে যাবে।।। যাতে অবাধ ভোগের পথে কোন কিছুই আপনার বাধা না হয়।
পুজিবাদ একটি নৈতিকতা বিবর্জিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।অধিক মুনাফার আশায় এখানে উৎপাদিত হয় মানুষের জন্য ক্ষতির কারন হয় এমন পন্য। পর্নোগ্রাফি,মাদক,সিনেমা ইত্যাদি এর প্রকৃষ্ট উদাহারন। এমনকী অল্প টাকায় শ্রম পাবার জন্য মানবপাচার পুজিবাদের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।এছাড়া নিম্নমানের কাচামাল ব্যবহার,ক্ষতিকর পরিবেশে শ্রমিকদের কাজ করানো ইত্যাদি যাবতীয় নৈতিকতা বিবর্জিত কর্মকান্ড আপনি পুজিবাদে খুজে পাবেন।প্রয়োজনে আপনাকে অসুস্থ করে তারপর আপনার কাছে ঔষধ বিক্রি করবে।
পুঁজিবাদী ব্যবস্থার এই ভয়ানক চিত্র সর্বপ্রথম বৃটেনে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর তা ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রে ‘মূলনীতি’ হিসাবে ছড়িয়ে পড়ে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় জনসাধারণের কল্যাণ ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের প্রশ্নই ছিল না। এজন্য মিল-কারখানায় যেসব পণ্য উৎপাদিত হ’ত সেগুলো ন্যূনতম মজুরিতে সর্বাধিক উৎপাদন এবং ব্যক্তিস্বার্থের নীতিতে উৎপাদন করা হ’ত। ফলে উৎপাদিত পণ্য দ্বারা গুদামগুলো ভরে গেল। অপরদিকে রফতানীর পথ সীমিত হওয়ায় এসব পণ্য গুদামে নষ্ট হ’তে লাগল। কিন্তু পণ্যের এরূপ প্রাচুর্য হওয়া সত্ত্বেও শ্রমিক ও গরীবরা এসব দ্বারা কোন প্রকার উপকৃত হ’ল না। পণ্য উৎপাদনের প্রাথমিক যুগে যেমন তারা নিজেদের প্রয়োজনে এসব পণ্য কিনতে পারত না, তেমনি প্রাচুর্যের সময়েও তারা এসব কেনার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত রইল। গরীব আগেও যেমন গরীব ছিলো তেমনি থেকে গেলো,মাঝ দিয়ে ফুলে ফেপে উঠলো বিভিন্ন পুজিপতিরা।
যাবতীয় সম্পদ কুক্ষিগত হলো গুটিকয়েক পুজিপতির হাতে।
কিন্তু আমাদের জানার বিষয় হচ্ছে ইসলাম কী পুজিবাদ কে সমর্থন করে??
অনেক পুজিপতিরা কতিপয় আলেমদের(?) দিয়ে বারবার এটা প্রচার করান যে ইসলাম পুজিবাদি সমাজব্যবস্থার পক্ষে। কিন্তু ইসলাম আর দশটি ধর্মের মত কোনো ধর্ম নয়, ইসলাম হল ‘দ্বীন’ বা জীবন ব্যবস্থা। আংশিক বা খণ্ডিত জীবন ব্যবস্থা নয়, পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম শুধুমাত্র কতগুলো নীতি নৈতিকতার সমষ্টি নয়, আনুষ্ঠানিক এবাদতের মধ্যেও ইসলাম সীমাবদ্ধ নয়। ইসলাম এমন এক পূর্ণাঙ্গ দ্বীন যা শুধুমাত্র কতগুলো আহকাম বা বিধিনিষেধ পালনের মধ্যে দায়িত্ব শেষ করে না। বরং ইসলাম বিশ্বাসীদের মধ্যে জাগিয়ে তোলে সামাজিক দায়িত্ববোধ। ইসলাম সন্ন্যাসবাদকে প্রশ্রয় দেয় না। যাবতীয় অনর্থক কর্মকে ইসলাম নিষিদ্ধ করে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মুমিনকে করে দায়িত্ব সচেতন । আল্লাহতায়ালা বলেন,
كُنتُم خَيرَ أُمَّةٍ أُخرِجَت لِلنّاسِ تَأمُرونَ بِالمَعروفِ وَتَنهَونَ عَنِ المُنكَرِ وَتُؤمِنونَ بِاللَّهِ ۗ وَلَو آمَنَ أَهلُ الكِتابِ لَكانَ خَيرًا لَهُم ۚ مِنهُمُ المُؤمِنونَ وَأَكثَرُهُمُ الفاسِقونَ
“ তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, তোমাদের পাঠানো হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য। তোমরা যাবতীয় সৎকর্ম সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং সকল প্রকার অন্যায়-অবিচার এর মূলোচ্ছেদ করবে। ’’ (৩ : ১১০)
মানবজাতির কল্যাণে নিয়োজিত হওয়ার জন্য এত স্পষ্ট বক্তব্য কোনো ধর্মে এমনকি কোনো মতাদর্শে পাওয়া যাবে না। এর মানে ইসলাম মুমিনকে তখনই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেয় – যখন সে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অব্যবস্থাপনার সংস্কার সাধনে আত্মনিয়োগ করার মধ্য দিয়ে মানবজাতির কল্যাণকে সুনিশ্চিত করতে পারে। পৃথিবীর যাবতীয় ধর্ম ছাড়াও পুঁজিবাদ এবং সমাজতন্ত্রের মধ্যে এর মত বা এর চেয়ে উন্নতমানের কোনো বাক্য কেউ দেখাতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। কারন এটা পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন। আর আমার আল্লাহর কথা সাথে কোন মতাদর্শের তুলনা করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই না।
ইসলাম এই নির্দেশ প্রদান করে যে, মুমিন হবে ঐ সকল মানুষের অভিভাবক ও সহায় যারা অসহায় ও মজলুম হয়ে আছে, যারা জালিমের অত্যাচারে, শোষণ আর জুলুমের শিকার – সেই ইসলাম কি করে পুঁজিবাদের সমর্থক হতে পারে? সে ইসলাম কি করে সাম্রাজ্যবাদের সমর্থক হয়ে কাজ করতে পারে? ইসলামের কোনো পক্ষশক্তি জালেমের জুলুম, অত্যাচার, নিপীড়নের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে না। উপরন্তু ইসলাম মুমিনদের যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানায়- যাতে করে জালেমের বিরুদ্ধে ইস্পাত কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।
يا أَيُّهَا الَّذينَ آمَنوا أَنفِقوا مِن طَيِّباتِ ما كَسَبتُم وَمِمّا أَخرَجنا لَكُم مِنَ الأَرضِ ۖ وَلا تَيَمَّمُوا الخَبيثَ مِنهُ تُنفِقونَ وَلَستُم بِآخِذيهِ إِلّا أَن تُغمِضوا فيهِ ۚ وَاعلَموا أَنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَميدٌ
“তোমরা যা উপার্জন কর এবং আমি যা ভূমি হতে তোমাদের জন্য উৎপাদন করে দেই তন্মধ্যে যা উৎকৃষ্ট তা ব্যয় কর । ” (২ : ২৬৭)
এর মানে ব্যক্তি যা উপার্জন করে তার চূড়ান্ত মালিক আল্লাহ্, ব্যক্তি হল সাময়িক শর্তযুক্ত মালিক । ব্যক্তি এক্ষেত্রে সমস্ত সম্পদ বা উপার্জন আত্মভোগেও ব্যয় করতে পারে, আবার আল্লাহ্র নির্দেশে ব্যও করতে পারে। উপার্জন কোনো কাজে ব্যয় করবে তা নির্ভর করে তার বিশ্বাসগত দিকের উপর। ব্যক্তি যদি চূড়ান্ত মালিক হিসেবে আল্লাহ্কে মেনে নেয় তখন আত্মভোগে প্রয়োজনীয় ভোগ করবে এবং এক অংশ জনকল্যাণে ব্যয় করবে। যারা জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করে না কুরআন তাদেরকে দ্বীনে অস্বীকারকারী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। সূরা মাউনে বলা হয়েছে– “তুমি কি তাকে দেখেছো , যে দ্বীনকে অস্বীকার করে ? সে তো সেই যে এতিমকে তাড়িয়ে দেয়, অভাবগ্রস্থকে খাদ্যদানে উৎসাহ দেয় না।
সুতরাং এটা স্পষ্ট যে ইসলাম কখনো পুজিবাদের মতো নৈতিকতা বিবর্জিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে পারেননা।
বরং ইসলামের রয়েছে নিজস্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। যেখানে অর্থনৈতিক সাম্যের কথা বলা হয়,বলা হয় নৈতিকতার কথা।
এই বাংলার জনপদে নানান সময় ইসলামপন্থীরা নানাবিধ উপায়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তীতুমীরের বাঁশেরকেল্লা থেকে শুরু করে শাপলার জনজোয়ার। তাতে অবশ্য এই জনপদের

খুব ছোটবেলাকার কথা। হঠাৎ শুনতে পেলাম শিবির নামক এক জুজু নাকি রগ কেটে নিচ্ছে সবার!! শুনে তো গায়ের রক্ত হিম হবার যোগাড়! দিন গড়ালো, আমরা

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চল। যেখানে প্রায় ১৩ টি উপজাতির বসতি। এছাড়াও দেশের আরো কিছু জায়গা মিলে বাংলাদেশে প্রায় ৫০ টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসতি রয়েছে। এই
প্রতিটি বাঙালির জন্যই দেশকে ,ভাষাকে জানা আবশ্যকীয়। এরই সাথে সাথে সমসাময়িক বিশ্ব সম্পর্কেও চাই সম্যক জ্ঞান। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক খুঁটিনাটি আলোচনা জানতে পড়ুন চর্যাপদ ।
আমাদের গবেষনাধর্মী লেখাগুলি পড়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন